Saturday, December 14, 2013

যাপন..


হাতেখড়ি
সাদা পাতা, কালো কালি,
খেলাঘর গড়ি খালি..

কৈশোর
এসো স্বপ্ন, স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখার,একসাথে..

প্রেম
এক রাত, দু’রাত, তিন রাত, সব রাত...
থেকে যাব, চোখে চাঁদ, কাঁধে মাথা, হাতে হাত..
  
সংসার
দু’-এক পশলা বৃষ্টিতে ভরে উঠবে মন,
পল্লবিত সবুজেই জীবন বন্ধন,
                         তোর সাথে..

বিচ্ছেদ
কথার উপর  কথা, তাসের উপর তাস
একটা ঝড়ে উড়ল জীবন, আমার সর্বনাশ।

বিরহ 
ভাষা আছে কথা নেই, গানে সুর তাল...
আমি আছি, মন নেই। শরীর, কঙ্কাল।

প্রত্যয়
অস্থির অবয়ব ভেঙ্গে যায়, কাচ
ছেঁড়া পাতা জোড়া দিয়ে এইবেলা বাঁচ..
  
পরকীয়া
সূর্য যতই টানুক, তাতে ঘুরুক দুনিয়া,
চাঁদের টানেই উঠবে জোয়ার, তুফান দরিয়া...

শাশ্বত
তুমি কার ?
কে তোমার?
কে কার owner?
কেউ কারো না

তোমার জন্য কে ?
আর কার জন্য তুমি ?
আমার জন্য আমিই আছি,
স্ব - অন্তর্যামী... 
কবিতাটি “কথা তো বলার জন্যেই” Blog (e-magazine)-এ পূর্বে প্রকাশিত (http://kothaspecial.blogspot.in/2012/10/japon.html)। অনেকগুলো অনুকবিতা কে এক সুরে বাঁধার চেষ্টা

Wednesday, June 19, 2013

সেই সব প্রেমের কবিতা – ২৪

হয়তো এসবই নেহাত ভার্চুয়াল,
হয়তো নেহাতই আনমনে কাছে থাকা।
হয়তো নিছকই সময় যাপন শুধু—
তবুও এভাবে তোমাতেই বেঁচে থাকা।

আগুনের ঘ্রাণ হারিয়ে ফেলেছি কবেই,
পকেটে জমানো খুচরো যত্ন-সুখ।
কর্পোরেটের স্যুট – টাই পরা job-এ
লুকিয়ে ফেলেছি বিস্ময় মাখা মুখ।

কাঁচা আম আর তেঁতুলের টক বিষে
এগাছে - ওগাছে কাটানো ঝিম্‌ দুপুর।
শাঁখের আওয়াজে, সন্ধ্যার অবকাশে,
মন ছুঁয়ে যেতো তোর পায়ের নূপুর।

হয়তো এসবই ভুলে যাওয়া কোন কথা।
হয়তো নেহাতই ঝরা সময়ের গান—
হয়তো নিছকই ভুল করে তুলে আনা
অবুঝ মনের না – হারানো অভিমান।

দু-দিকে বিনুনী; আকাশী ফ্রকের ঘেরে
জড় করে রাখা পাকা জাম। ভুলে গেছি।
মাছরাঙা আজো মাছ খুঁজে খুঁজে ফেরে,
আমি আজও একা খেলে যাই কানামাছি।

কতদিন গেলো দেখিনি কখনো গুণে।
মনে হয় তোর বয়স থমকে আছে—
কিচ্ছু না বুঝে হঠাৎ, বৃষ্টিতে চুম্বনে—
শেষবার তোকে ছুঁয়ে দেখা। মনে আছে।

এখন সময় পাল্টে দিয়েছে সব।
চিনতে পেরেও দূর থেকে তোকে দেখি;
কাছে গেলে যদি ভুলে যাই শৈশব!
দূরত্ব থাক। আমি কল্পনা আঁকি।

হয়তো এসবই মধ্যবিত্ত, ক্লিশে।
হয়তো নেহাতই virtuality, তবু—
তোমার সাজানো বাস্তব মিলে মিশে

আমার স্বপ্নে রোদ্দুর এঁকে যায়।।

Friday, May 17, 2013

মৃতালাপ - ২


















দেখতে দেখতে একটা বছর,
হয়তো খুবই অল্প সময়।
মন খারাপের কয়েক প্রহর
তুই না থাকার একমুঠো ভয়।

দেখছি, শুনছি, ভাঙ্গছি শুধু
মনের মধ্যে অনেক ভাঙ্গন।
সহ্য করছি আস্তে আস্তে
মন খারাপের হাজার কারন।

তুই কেন নেই ফোনের পারে?
তোর হাসিমুখ, ইচ্ছে ডানা,
খামখেয়ালের সুরের তারে—
বুঝি ওসব বলতে মানা।

কার জন্য গোমরানো বুক,
কার দোষে তোর ইচ্ছে-মরন?
মনের কোনের কোন সে অসুখ?
কোন অভিমান? কোন সে ক্ষরণ?

একটিবারও বললি না তুই,
একাই নিলি সব অপমান—
থাকল কেবল অশ্রুভাঙ্গা
আপশোষ আর প্রাণহীন প্রান।

সব বেদনার রং আজও নীল,
তোর অভিমান, তুলির আঁচড়,
টাটকা আজও। জড়িয়ে আছে
যা দিয়েছিস, যা ছিল তোর।

পেরিয়ে এলাম একটা বছর,
আমার জন্য অনেক সময়।
হারিয়ে গেছে সঙ্গী, শহর;
বুক জুড়ে আজ যন্ত্রণা ভয়।।

In loving memory of my sister Sancheeta who choose the other way of life one year ago, leaving behind 'Sensitivity', her immortal creations. RIP sis... I miss you a lot...

Thursday, January 3, 2013

ন্যু-ইয়ার্স


















আরেকটা ছোট্ট রাত—
অন্যান্য দিনের মতোই কামনা ভরা,
তফাত কেবল চাকচিক্যে।
আকাশে রঙের আগুন লেগেছে,
গুহার ভিতর খণ্ড হচ্ছে প্রত্যাশা।

চোখ জড়ানো,
ফুর্তির সাতান্ন তম উপমা—
ন্যু-ইয়ার্স, পার্ক স্ট্রীট, যৌবন।
আলোর নীচে অন্ধকার চিরন্তন।

কোমড়ে হাত,স্বল্প বসন সুন্দরী;
চোখের তারায় মদির আগুন
অন্ধকারে শরীরি ডাক, হাতছানি।

স্পর্শ অনেক, নাচের টানে ডিস্কোথেক;
অল্প তরল, স্বল্প কিছু সারল্য
ঠোঁটের কোনে লালচে দাগ লিপস্টিকের।

মেট্রো দারুন উদারপন্থী, সেক্সুয়াল;
লালবাতি জীপ, সোনাগাছি অন্ধকার,
বাড়লে নেশা, ট্যাক্সি ভাড়া, সেই বাওয়াল।

অভ্যেস নেই, হোটেল বুকিং প্রথমবার;
মাথায় সিঁদুর, একটা রাতের সুখ-সাথী
সকাল হলেই সবাই নিজের, পগার পার।

ঝোপ বুঝে কোপ মারছে সবাই, আড়কাঠি;
উঠতে গেলে বসের সাথে দু একবার…
লেট নাইটের পার্টির শেষে একলাঘর।

ন্যু-ইয়ার্সের সেলিব্রেশন চূড়ান্ত;
আড়াল পেলে সেই বসেরই বাপান্ত—
               এসব নিয়েই বিদায় তোমায়, ডিসেম্বর।।

Picture Courtesy: Monalisa Dutta

Tuesday, December 4, 2012

এসো প্রেম...











কোন স্থানই শূন্য থাকে না।
পাশাপাশি বসে থাকা, একসাথে।
অগম্য নৈঃশব্দ্য। তবু
শব্দহীন ভাবনারা বয়ে যায়।

এসো সব দূরত্বকে অতিক্রম করে,
চলো মিশে যাবো। যেমন
জলে মেশে জল।
কোন স্থান শূন্য রাখব না।

যে যা বলে বলুক,
হয়তো শরীর-সর্বস্ব, তবু
শূন্যতায় একবার মরে যেতে চেয়ে—
এসো প্রেম খেলি ভরাট ভরাট খেলা,
                             একসাথে।

তোমার আমার মাঝে কোন শূন্যস্থান নেই ।।

Wednesday, November 7, 2012

নভেম্বর..


















রাত গভীর হলো।
ভোর হতে বাকী নেই বেশী,
ঘরগুলো নিস্তব্ধ, ঘুমন্ত---
এখন নভেম্বর...

টুপ্ টাপ, টুপ্ টাপ, চুপচাপ
সূতীক্ষ্ণ নৈঃশব্দে ঝড়ে পরা।
আবছা একটুকরো চাঁদ,
ভেপারটাও ঝাপসা, ম্লান আলো
একাকীত্বে, যৌবন স্বপ্ন প্রতীক্ষায়।
এখন নভেম্বর...


একটা রাতচরা ডেকে যায় অতর্কিতে,
সিগারেট পুড়ে যায়,হয়তো বিতৃষ্ণায়।
এবার সব ঋণ শোধ হবে,
এবার নতুন কিছু,
ওঃ স্বপ্ন---
এখন নভেম্বর...

সব গাছ কুয়াশার আদরে সমর্পিত।
বছরের প্রথম কুয়াশা আর..
আয় শীত, আয় ভালবাসা,
আয় শীত, আয়...
এসো ভালবাসা..
এখন নভেম্বর...

কুয়াশা জড়িয়ে আছে এ জীবন;
বসন্ত আসবেই, পাতা ঝরে গেলে।
সেদিনও কুয়াশা ছিল, চোখের তারায়--
সেদিনও শীতের আনাগোনা ছিল খুব,
সেই গত নভেম্বরে...

কীসের সংকেত শুনি, চুপচাপ,
টুপ্ টাপ, টুপ্ টাপ, চুপচাপ...
তোমার দেহের ওম নিইনি অনেকদিন।
এসো শীত মূগ্ধ অভিসারে,
এসো ভালবাসা, ভালবাসি কুয়াশা মাখা ভোরে,
তুমি এসো মুঠো ভরা উষ্ণতা নিয়ে,
আগুন জ্বালাব আজ, জ্বালাব এ মন,
শরীরে শরীর ঘষে, এই শীতে,
                                   এই নভেম্বরে...




Photo Courtesy: Sayantan Mukherjee, Dept. of Zoology, The University of Burdwan.

Monday, October 15, 2012

আবাহন














"তোর  চোখে আজ  জল কেনরে  মুখপুড়ি ?"

আকাশে  লেগেছে  সমুদ্র -নীল  কাজল,
মেঘের ওড়না ঢাকতে পারেনা যৌবন।
অবুঝ সময়ে আনন্দ মাখা গন্ধ,
হিমেল রাতের শেষে জেগে  ওঠে কাশ -বন।

কারো বুঝি ব্যস্ততা শুরু হয় ভোর রাতে 
কারো রাত একই থাকে, দিন চলে কোনমতে।
কারো চোখ নেশাতুর, চোখে চোখ জুড়ে যায় 
কারো প্রেম ছারখার, মুখ ঢাকে লজ্জায়..

কারো দিন, কারো রাত,কারো হাত ,কোন হাত
চোখ দান করে যায়  ইশ্বর ভরসায়।

কোথাও মিলন সুর, কানাকানি, গুঞ্জন 
কোথাও হতাশা ঢেকে কোনো মুখ ভাস্বর 
কেউ খোঁজে শিকড়ের টান, প্রাণ, তর্পণ 
কোথাও অন্ধ-গলি, সুমধুর কোন স্বর -
"তোর চোখে আজ জল কেন রে মুখপুড়ি ?"

কেন কোনো কিশোরীর মুখ ভার শাড়িতে !
হয়ত কোথাও কোনো কচি মন ব্যথাতুর ;
অঞ্জলি, চাওয়া পাওয়া, বাঁকা হাসি, রোদ্দুর 
অভিমানী ভালোবাসা, ভালোবাসো দাবীতে। 

মিলনের শেষ রাগে বিদায়ের বাজে সুর।
আমি, তুমি, আমরা ও সব শ্রোতা নির্বাক,
ভাঙ্গা ম্যারাপের কোনে একা ডাকে কালো কাক,
বছর ঘুরলে পাবে আগমনী রোদ্দুর।

বদলাবে কত কিছু ,
পৃথিবীর সব রঙ 
বদলাবে চাওয়া পাওয়া
জীবনের যত ঢং 
শুধু সেই কানা গলি, রঙচঙে মেয়েটা 
বিরলে চোখের জল ঝরাবে সে দু-ফোঁটা ;
নষ্ট সে মেয়েটার, দুরের আপনজন 
একই ভাবে বলবে, যে কথা চিরন্তন -

"তোর চোখে আজ জল কেন রে মুখপুড়ি ?
একবারই তো স্বীকৃতি হয় 
মাটির জন্য, মায়ের পুজোয়;
আজ চোখ মোছ, কাঁদিস না আর,
মা এসেছেন আজকে আবার ; আনন্দ কর -
এমন দিনে মায়ের মেয়ের কান্না মানায় !"

Friday, August 3, 2012

কোনো কথা আসেনা










শব্দ গহ্বরে গভীরে ডুব দিই
নতুন কোনো কথা আসেনা কলমে।

হৃদয় চেঁছে তোলা প্রেমের সব বিষ
জমছে ধমনীতে মৃত্যু ইশারায়--
যদিও ঢের বাকী জাগতে আনুবিশ
ধ্বংস ধেয়ে আসে আগুন পাহাড়ায়।

আগুন নিভে যাবে, জলের আদরে।
আদর ক্ষয়ে যাবে, সময় পোহালে।
সময় চলে যাবে যেখানে ছায়াপথ
তারার আলো মাখা আগুনে ডুবে যায়...

আগুন গহ্বরে শব্দ হাতড়াই।
নতুন ভাষা যদি কলমে খুঁজে পাই,
আদরে, আব্দারে আগুনে সাঁতড়াই,
                                            আদরে ....

Saturday, July 21, 2012

চল ফিরি...











ফালতু পথ স্বপ্নহীন
একটা গান বেসুরে
আসছে কাল শুধবো ঋণ
কাজ পেলে, সুদ সমেত।


কথার দাম, কমছে কই
বাজারদর যাচ্ছেতাই
নীল আলো নিভছে ঐ
ঠিক যেন রূপকথাই।


তারচে চল গা ভাসাই,
জুটবে ঠিক পেটের ভাত।
স্বপ্ন পথ, তরল ছাই
তোর সাথে একটা রাত...


রাত পোহালে আবার সেই ব্যাস্ত দিন
এধার ওধার গন্ধ শুঁকে গোয়েন্দা,
মাইক্রো-ফিনান্স, ধান্দাবাজির সুযোগ নিন,
বুক পকেটে লুকোনো সুখ বারান্দা।


সুখের ভ্রমর, বুক আর কোমড়, লাবন্যে
আটকে যাওয়া চটচটে ঘাম, ঠোঁটের দাগ
শরীর জুড়ে অসময়ের ভৈরবী রাগ---
তুই আর আমি চল ফিরি সেই অরন্যে...